মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রভাবে চাপের মুখে পড়েছে হ্যালোউইন শিল্প। কস্টিউম থেকে শুরু করে প্রপস, মাস্কসহ সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলো। পাশাপাশি সাধারণ পরিবারগুলোর জন্য উৎসবটিতে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। খবর সিএনএন।
ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজে অবস্থিত হ্যালোউইন অ্যান্ড কস্টিউম অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ ক্রিস জেফ্রোর মালিকানাধীন ট্রিক অর ট্রিট স্টুডিওজ হ্যালোউইন কস্টিউম, মাস্ক ও প্রপস (সাজসজ্জার সামগ্রী) তৈরি ও আমদানি করে। এগুলো বিশ্বজুড়ে ১০ হাজারের বেশি খুচরা বিক্রেতার কাছে সরবরাহ করা হয়, যার ৬৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হয়। চলতি বছর এখন পর্যন্ত কোম্পানিটি শুল্ক বাবদ ৮ লাখ ডলারের বেশি খরচ করেছে। এ চাপ সামলাতে জেফ্রোকে প্রথমবারের মতো ১৫ জন কর্মী ছাঁটাই করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি তাদের পরিবারকে চিনি। তাদের বিদায় জানানো আমার জীবনের অন্যতম খারাপ দিন ছিল। তবে ব্যবসা টিকে থাকবে কিনা, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন।’
প্রায় ৯০ শতাংশ হ্যালোউইন পণ্যের অন্তত একটি উপাদান বিদেশে তৈরি হয়, যার বেশির ভাগই আসে চীন থেকে। ফলে শুল্কের চাপ সরাসরি পড়েছে এ শিল্পে। ট্রাম্প প্রশাসন গত এপ্রিলে চীন থেকে আমদানির শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৪৫ শতাংশ করে। পরে মে মাসে তা কমিয়ে ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। শুল্ক এত বেশি হওয়ায় অনেক আমদানিকারক নতুন করে পণ্য তৈরির ক্রয়াদেশ দেয়া বন্ধ করে দেয়। এতে এবারের হ্যালোউইন মৌসুমে সরবরাহ কমে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক খুচরা ব্যবসায়ীদের সংগঠন ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশনের (এনআরএফ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশটিতে প্রতি ক্রেতা হ্যালোউইন উৎসবে গড়ে ১১৪ ডলার ৪৫ সেন্ট খরচ করবেন, যা গত বছরের চেয়ে ১১ ডলার বেশি।
এনআরএফের এক জরিপের তথ্যানুসারে, ৭৯ শতাংশ ক্রেতাই মনে করছেন শুল্কের কারণে এ বছর দাম আরো বেশি।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শুল্কের মাধ্যমে সম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করবেন। ফেন্টানিল চোরাচালান মোকাবেলা করবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে পুনরুদ্ধার করবেন। ‘বাড়তি প্রকৃত মজুরি, ঐতিহাসিক বাণিজ্যচুক্তি ও যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ প্রমাণ করে তার নীতি সফল হচ্ছে।’
ক্যালিফোর্নিয়ার নর্থরিজে ফ্যানটম হ্যালোউইনের মালিক রায়ান গোল্ডম্যান বলেন, ‘শিশুদের কস্টিউমের দাম বাড়ানো হয়নি। তবে বড়দের কস্টিউমের ক্ষেত্রে বাড়তি খরচ যুক্ত করতে হয়েছে। আমরা জানি শুল্কের কারণে দাম বাড়ছে। কিন্তু সবকিছুর দাম সমানভাবে বাড়ানো ন্যায্য হবে না বলে আমি মনে করি।’
প্রপস ও বড় আকারের সাজসজ্জার পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই সেগুলো আমদানি করেননি। যেমন গোল্ডম্যান এবারে নতুন করে বড় আকারের অ্যানিমাট্রনিক ক্লাউন আনেননি। কারণ আমদানি করলে এর দাম গত বছরের ৩৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ৬০০ ডলারের কাছাকাছি চলে যেত।
হ্যালোউইন অ্যান্ড কস্টিউম অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পরিস্থিতি সবচেয়ে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদেশী কারখানার ওপর নির্ভরশীল এসব কোম্পানি স্থানীয়ভাবে উৎপাদনে যেতে পারছে না। কারণ অবকাঠামো, কাঁচামাল ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যয় তাদের জন্য বড় বাধা।